গোয়াইনঘাটে তীব্র গরমে প্রকৃতির ছায়ায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিগত কয়েকদিন ধরে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন একপ্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে টিকতে না পেরে গোয়াইনঘাটের জাফলং মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায়। আজ সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বড় বড় কয়েকটি গাছের নিচে গোড়ায় বসে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে গাছের ছায়ায়। সেখানেই অস্থায়ীভাবে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।

তীব্র দাবদাহে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই বিকল্প এই উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, টিনের চালার কারণে দুপুরের দিকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরটা গরম হয়ে ওঠে। এর ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্যানও ঘোরে না। গরমে ঘেমে অনেকেরই দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ক্লাসে বসে মনোযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, গরমে অনেকেই অসুস্থ বোধ করে। তাই শিক্ষকরা তাদের বাইরে গাছের ছায়ায় ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। গাছের নিচে খোলা বাতাস থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, চারপাশের তীব্র গরমের আঁচ ঠিকই গায়ে লাগছে।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য করিম মাহমুদ লিমন জানান “গত কয়েকদিন ধরে যে পরিমাণ গরম পড়েছে, তাতে বদ্ধ ক্লাসরুমে বসে থাকা বড়দের পক্ষেই কঠিন। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কীভাবে ক্লাস করবে? শ্রেণিকক্ষের ভেতরে গরমে হাঁসফাঁস করছিল তারা। তাই শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার কথা চিন্তা করে এবং পড়ালেখার ক্ষতি এড়াতে শিক্ষকগণ বাধ্য হয়ে গাছের ছায়ায় খোলা পরিবেশে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হেসেন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, “বিদ্যুৎ না থাকলে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই না গরমের কারণে আমাদের কোনো শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ুক। তাই সাময়িকভাবে গাছের ছায়ায় পাঠদানের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

0%
0%
No Comment Yet