মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সময়: ১৬:২১:৫০
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে শুক্রবার কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। রিপাবলিকান দলের ঝুঁকিতে থাকা এক প্রার্থী এ পরিবর্তনের জন্য তদবির করেছিলেন বলে জানানোর পর এ সিদ্ধান্ত এল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুল্ক ছাড়ের আওতায় রয়েছে প্লাইউডের শিট, কিছু কাগজজাত পণ্য, নির্দিষ্ট ধরনের যন্ত্রপাতি ও শীতলীকরণ সরঞ্জাম।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধা পেতে পারেন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনে ডেমোক্র্যাট দলের এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে অঙ্গরাজ্যটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কলিন্স বলেন, তিনি মেইনের কৃষিশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ছাড় নিশ্চিত করেছেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণ।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ প্রচেষ্টায় তারা কলিন্সের সিনেট আসনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল। কানাডার মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়।
গত আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর জেরে ট্রাম্প একের পর এক নতুন শুল্ক আরোপ করেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুক্রবারের সিদ্ধান্তে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও কার্পেট, নির্দিষ্ট ধরনের ভালভ ও বর্জ্যজাত পণ্যসহ নতুন কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাগুলো ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কসংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে কানাডা অবগত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ পর্যালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত রয়েছে।’
সিনেটর কলিন্স বলেন, তার অঙ্গরাজ্যের অনেক কৃষক কানাডা থেকে আমদানি করা বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, প্যাকেজিং উপকরণ ও অন্যান্য পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব পণ্যের কিছু যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। আবার বিকল্প পণ্য ব্যবহার করতে গেলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় হয়।
ট্রাম্পের আগে আরোপ করা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপর শুল্ক কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এতে দেশটিতে কর্মসংস্থান কমেছে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
চলতি বছর পরপর দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় কানাডা প্রযুক্তিগত মন্দার মধ্যে প্রবেশ করেছে।
বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যকে প্রভাবিত করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব পণ্যের মধ্যে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প বন্ধু ও প্রতিপক্ষ— উভয় দেশের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
No Comment Yet