বিশেষজ্ঞদের অভিমত
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়: ০৭:৫৫:১০
রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতকে নগর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন বা চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কৃষির পর আবাসন ও নির্মাণ খাত দেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার—স্থপতি ও প্রকৌশলী থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ানসহ লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। শহুরে বেকারত্ব কমানো, আয়ের প্রবাহ তৈরি এবং নগরের সামগ্রিক কর্মকা- সচল রাখতে এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সহজ কথায়, রিয়েল এস্টেট খাত স্থবির হয়ে পড়লে নগর অর্থনীতিতে ধস নামার ঝুঁকি তৈরি হয় কারণ এটি শুধু আবাসনের চাহিদা মেটায় না, বরং বহু শিল্প ও সেবা খাতের চাকা সচল রাখে। তবে জমি ও ফ্ল্যাট বেচাকেনায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, নিবন্ধন ও হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতা, গ্রাহক হয়রানি ও প্রতারণাসহ নানা কারণে খাতটি বিতর্কের বাইরে নয়।
এরই প্রেক্ষাপটে খাতটিকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে স্বল্পমেয়াদি (শর্ট টার্ম) এবং দীর্ঘমেয়াদি (লং টার্ম) নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, অর্থনীতিবিদ সাকিফ শামীম এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ। মীর নাসির হোসেন রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতকে লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পের জননী হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর মতে, এই খাত যখন মন্থর হয়, তখন সিমেন্ট, স্টিল, কাঁচ এবং আসবাবপত্রসহ কয়েকশ’র বেশি উপখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন যে, নির্মাণ খাত হলো আনস্কিল্ড লেবার বা অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র। গ্রাম থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ এই খাতে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে, যা দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
সাকিফ শামীম বলেন, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং সেক্টর সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জিডিপির প্রায় ৭-৮ শতাংশ অবদান রাখে। তাঁর মতে, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৩০টিরও বেশি ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিÑ সিমেন্ট, রড, ইট, কাচ, স্যানিটারি, ইলেকট্রিক্যাল, ফার্নিচার, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্সসহ নানা খাত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত নগরায়নশীল দেশগুলোর একটি জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নগর এলাকায় বসবাস করবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসন, কর্মস্থল, বাণিজ্যিক স্পেস, পরিবহন এবং ইউটিলিটি সাপোর্ট নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একার পক্ষে কঠিন; তাই রিয়েল এস্টেট খাত কার্যত একটি ডি-ফ্যাক্টো আরবান প্ল্যানিং পার্টনার হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাসরুর রিয়াজ বলেন, রিয়েল এস্টেট খাত নগর অর্থনীতির কাঠামো গড়ে দেয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, বহু লিংকেজ শিল্পকে সচল রাখে, আর্থিক খাতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকে এবং নগরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সঠিক নীতি সহায়তা, দায়িত্বশীল ডেভেলপমেন্ট এবং কার্যকর রেগুলেশন থাকলে এই খাতই হতে পারে বাংলাদেশের স্মার্ট, ইনক্লুসিভ ও টেকসই নগরায়ণের প্রধান চালিকাশক্তি।
বিজ্ঞাপন
anjara world
No Comment Yet