এবার আমেরিকার চেয়েও বেশি ভারতীয় তাড়াচ্ছে সৌদি!

বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সৌদি আরব। গত শনিবার ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বারবার আলোচনায় এলেও বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে ৮,৮৮৭ জন ভারতীয় নাগরিককে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী বছর ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০,২৭৭ জনে। এছাড়া ২০২৩ সালে ১১,৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯,২০৬ জন ভারতীয়কে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত আরও ৭,০১৯ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশটি ফেরত পাঠিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরব থেকে ভারতীয়দের এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের ঘটনাই এই প্রত্যাবাসনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করা এবং স্থানীয় শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে অধিকাংশ ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ছাড়াও কাজের অনুমতি (আকামা) ছাড়া শ্রমদান এবং আবাসন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের কারণে ব্যাপক মাত্রায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Shwapno Super Shop

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিষয়ক বিতর্ক অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করলেও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইন ভঙ্গ করে ফেরত আসার তালিকায় সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে বর্তমানে ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য সৌদি আরব এবং তৎসংলগ্ন উপসাগরীয় অঞ্চলগুলো আইনি ব্যবস্থার নিরিখে অনেক বেশি কঠোর বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

0%
0%
No Comment Yet