শেরপুরে খোলা স্কুল ঘিরে বিক্ষোভ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৪:৪৮:৫২
রাষ্ট্র ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শেরপুর জেলা শহরের বটতলা এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ‘জিদনি মডেল স্কুল’-এর পরিচালক ও শিক্ষক আল আমিন (সুহেল)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ‘জিদনি মডেল স্কুল’ খোলা রাখা হয়। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীরা স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিবাদ জানালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর। তারা জানান, অভিযুক্ত আল আমিন (সুহেল) একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো লাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা অনুমোদিত নয়, যা সচেতন মহলের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী স্কুলের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় জাতীয় শোক দিবসে স্কুল খোলা রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে স্কুলের পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
শেরপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য একে এম আনাছ বলেন, “জাতীয় শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।”
শেরপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক বাপ্পি চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “গত ২০ তারিখে শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসেও অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে স্কুল খোলা রেখেছিলেন। এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতি চরম অবজ্ঞা।”
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
পৌর যুবদলের কর্মী ফাহিম মোর্শেদ বাধন বলেন, “একজন সরকারি শিক্ষক হয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কীভাবে সম্ভব। কার স্বার্থে তিনি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করছেন বারবার -তা তদন্ত করে স্পষ্ট করা জরুরি।”
ছাত্রদলের কর্মী আরিফুল ইসলাম নিবিড় বলেন, “সারা দেশ যখন জাতীয় শোক দিবস পালন করছে, তখন সংশ্লিষ্টরা তা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে নির্দেশ অমান্য করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘জিদনি মডেল স্কুল’-এর পরিচালক আল আমিন (সুহেল) বলেন, পূর্বনির্ধারিত বাৎসরিক ফলাফল প্রকাশের কারণে স্কুল খোলা রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেবল ফলাফল নিতে এসেছিলেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবা হক বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা কি প্রশাসনিক নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন নয়? একজন সরকারি শিক্ষক কীভাবে একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারেন? তদন্ত কি কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
No Comment Yet