নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থীদের হলফনামায় যা আছে

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। তবে কিভাবে স্ত্রী এত সম্পদের মালিক হলেন বা ব্যবসা কী- সেটি উল্লেখ নাই হলফনামায়।

অন্যদিকে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। নজরুল ইসলাম আজাদের গাড়ি না থাকলেও গাড়ি আছে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার। আজাদ ২৩টি মামলার খালাসপ্রাপ্ত ও আরও তিনটি মামলা চলমান আছে। তবে ২৫টি মামলায়ই আওয়ামী লীগ আমলের। আর শুধু ২০১৩ সালেই তিনি ১০টি মামলার আসামি হয়েছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যানুযায়ী ব্যবসা থেকে আজাদের আয় ৯ লাখ চার হাজার টাকা। তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় প্রায় সাত লাখ টাকা।হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তির হিসেবে তিনি বলেছেন তার কাছে নগদ আছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। যেখানে ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তার কাছে নগদ টাকা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, এখন আজাদের স্ত্রীর হাতে রয়েছে ১৪ কোটি আটত্রিশ লাখ টাকা; যা বর্তমানে আজাদের কাছে থাকা নগদ অর্থের প্রায় ২৯ গুণ। আর ২০১৮ সালের হলফনামার তুলনায় ৭১৯ গুণ। বর্তমানে আজাদের ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। বর্তমানে তার স্ত্রীর রয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার খাতে আজাদ বিনিয়োগ করেছেন প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। এ খাতে তার স্ত্রী বিনিয়োগ করেছেন ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সাধারণত মেয়েদের স্বর্ণ বেশি থাকলেও এক্ষেত্রে আজাদ ব্যতিক্রম। আজাদের স্বর্ণের পরিমাণ বেশি। উপহার হিসেবে পাওয়া আজাদের স্বর্ণ রয়েছে ৪০ ভরি, তার স্ত্রীর ৩৬ ভরি।

এই স্বর্ণের মূল্য তার ‘অজানা’ বলে আজাদ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র মিলিয়ে আজাদের রয়েছে ১১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি আর তার স্ত্রীর রয়েছে পৌনে ৭ লাখ টাকার। আজাদের কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। কৃষি জমিও নেই। তার ৪৬ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে যার মূল্য তার ‘অজানা’।

এছাড়া পয়েন্ট ২৫ শতাংশে বিল্ডিং দোকান রয়েছে যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। আজাদের স্ত্রীর চার কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে ৪৮ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। এস এন্ড জে স্টিলের অংশীদার হিসেবে তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে ২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। আজাদ নিজেকে এবং তার স্ত্রীকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ও তার স্ত্রীর আগের পেশাও ব্যবসা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। হলফনামার তথ্যানুযায়ী তার নিজস্ব কোনো যানবাহন নেই।

আয় কমেছে আতাউর রহমান আঙ্গুরের

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের আয় ব্যাপক কমে গেছে। বিমানের টিকিট, রিক্রুটিং এজেন্সি, কৃষি জমি ও বাড়ি ভাড়া থেকে তার এখন বাৎসরিক আয় মাত্র ২৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে জমা দেয়া তার হলফনামা অনুযায়ী এ তিন খাতে তার আয় বাৎসরিক ছিল ৪৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ছিল ৪ লাখ ৮৪ হাজার। বর্তমানে তার স্ত্রীর কোনো আয় নেই।

আতাউর রহমান খান আঙ্গুর জানান, তার বেশ কিছু ব্যবসা তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। কিছু সম্পূর্ণই তিনি ছেলেদের দিয়েছেন। তাই তার আয় কমে গেছে।

ইলিয়াস মোল্লার গাড়ি আছে

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের যানবাহন না থাকলেও গাড়ি আছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার। তার গাড়ির মূল্য ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

টেলিফোনে ইলিয়াস মোল্লা জানান, তার একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৬ লাখ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তার ১১ লাখ টাকা মূল্যের ১১ শতাংশ জমি আছে।

0%
0%
No Comment Yet