এবার মামদানির ওপর ক্ষুব্ধ ভারত সরকার
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৩:৪৬:৩৯
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুরু হয়, যখন মামদানির লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। চিঠিতে কারাবন্দি অধিকারকর্মী উমর খালিদকে মনোবল দেওয়ার বার্তা ছিল, যা ভারতের সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে।
চিঠি প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা কোনো সরকারি কর্মকর্তার জন্য সমীচীন নয়। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিদের উচিত সার্বভৌমত্ব ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এ ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক শালীনতার পরিপন্থি এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
উমর খালিদ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বিনা বিচারে কারাবন্দি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিলিতে সংঘটিত দাঙ্গায় তার অভিযুক্ত থাকার কারণে তাকে ভারতের ‘আনলফুল অ্যাকটিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট’-এর আওতায় আটক রাখা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পার হলেও তার বিচার শুরু হয়নি। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি তার জামিন আবেদন খারিজ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ অভিযোগ করেছে, খালিদকে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সক্রিয় থাকার কারণে নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, উমর খালিদের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ভারতের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে খালিদকে জামিন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বিদেশি মন্তব্যের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির অবস্থান বরাবরই কঠোর। উমর খালিদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক আবারও সেই তীব্র নীতি এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার প্রেক্ষাপট সামনে এনেছে।
No Comment Yet