যে নিয়মে বাড়িভাড়া বাড়াতে হবে মালিককে
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ সময়: ০৬:১৫:৫৫
ঢাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ এর আলোকে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশিকার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
নির্দেশিকায় দুই বছর পর ভাড়া বাড়ানো এবং জুন-জুলাই মাসে ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি না হওয়ার কথা রয়েছে।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া দুই পক্ষকেই এ নির্দেশিকার বিষয়বস্তু মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বাড়ি ভাড়া দেওয়া কিংবা নেওয়া–সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দুই পক্ষই ঢাকা উত্তর সিটির প্রত্যেক অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সমাধানের জন্য জানাতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
নির্দেশিকা প্রকাশের আগে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাস হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে মোট বাড়ির সংখ্যা ২০–২৫ লাখের বেশি নয়। ফলে শহরের একটি বড় অংশই ভাড়াটিয়া। গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন, ব্যক্তিগত অভিবাসন এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নগরীর ওপর চাপ বাড়ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আবাসন খাতে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, একটি শহরে মানুষের আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ যদি আবাসনে ব্যয় হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। কিন্তু ঢাকায় অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে আয়ের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়ায় ব্যয় করতে হচ্ছে।
মোহাম্মদ এজাজ জানান, ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নজনিত জটিলতা ও অস্পষ্টতা থাকায় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় বারবার অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা বাড়ি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের অধিকারগুলোও যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিও এত দিন গুরুত্ব পায়নি।
No Comment Yet