নবজাতককে গলা কেটে হত্যা, দম্পতি কারাগারে
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ১১ মে ২০২৬ সময়: ০১:১৭:২৬
বগুড়ায় দ্বিতীয় বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা গোপন রাখতে নবজাতককে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মা ও সৎবাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রামপুলিশ বাদী হয়ে শনিবার (৯ মে) রাতে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
রোববার (১০ মে) বিকালে আটক দুজনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মা নিপা আক্তার দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতাররা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামের নূর আলমের ছেলে দুলাল হোসেন (২৫) এবং তার পঞ্চম স্ত্রী গাবতলী উপজেলার উনচুরখি গ্রামের নিপা আক্তার (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে এক বছর আগে নিপা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে গত রমজানে দুলাল হোসেন নিপাকে বিয়ে করেন। তবে দ্বিতীয় বিয়ের আগেই নিপা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন রাখেন।
গত ৮ মে শুক্রবার বিকালে নিপা বাড়ির গোসলখানায় একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ রয়েছে, লোকলজ্জার ভয়ে নিপা ও দুলাল মিলে নবজাতকের গলা কেটে হত্যা করেন। পরে লাশ পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেন।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
শনিবার দুপুরে পুকুরে নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা নিপার স্বজনদের মারধর করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতককে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে নিপা আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
No Comment Yet