লালমনিরহাটে বিজিবি’র বাধায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ সময়: ২৩:৩১:১০
লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও নজরদারির কারণে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে ৩৩ জনকে সীমান্তে জড়ো করে এবং রাতে তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তাদের অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকায় মোট ৩৩ জন নারী-পুরুষকে পুশইনের জন্য আনে বিএসএফ। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের ৬১ বিজিবি বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং ১৫ বিজিবি আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার ১২ জন।
অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিষয় জানার পরপরই বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করলেও তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
এরপর শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এদিকে শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
শূন্যরেখায় থাকা সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ জানা গেছে, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করিয়ে পরে একটি পিকআপভ্যানে করে নিয়ে যায়। ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রংপুর সেক্টর সদর দপ্তর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
No Comment Yet