ঠিকাদারিতে নিম্নমানের কাজ ঠেকাতে পিপিআর সংশোধন আশ্বাস এলজিআরডি মন্ত্রীর

সংসদ ভবন, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস): গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ বারবার হাতবদল, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন। এ ধরনের অনিয়ম রোধে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার উন্নয়ন কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের বড় ঠিকাদারদের হাতে চলে যাচ্ছে, যারা প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।

তিনি বলেন, এসব বহিরাগত ঠিকাদার অনেক সময় কাজ পাওয়ার পর তা স্থানীয় অদক্ষ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে গোপনে বিক্রি বা হস্তান্তর করে দেন। একাধিক ধাপে কাজ হাতবদল হওয়ার কারণে প্রকল্পের মূল বাজেট কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কাজের মান রক্ষার পরিবর্তে লোকসান পুষিয়ে নিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা, জনসাধারণের চাহিদা এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত থাকেন। একই সঙ্গে জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির কারণে কাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাও বেশি থাকে।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এলজিইডির আওতায় সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী মূলত দুটি পদ্ধতিতে কাজ সম্পাদিত হয়। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার নিবন্ধিত ঠিকাদাররাই অংশগ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের যেকোনো প্রান্তের ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ পান।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

পরে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা এবং অতীতে গড়ে ওঠা অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী কিছু বড় ঠিকাদার কাগজে-কলমে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজ সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা কাজ বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক ধাপে কাজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় সংকুচিত হয়ে যায় এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে এমন সমস্যার বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। ঠিকাদারি ব্যবস্থায় কাজ হাতবদল এবং এর ফলে উন্নয়ন কাজের মানহানির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সঠিক ও যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা কীভাবে পর্যালোচনা বা সংশোধন করা যায়, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

0%
0%
No Comment Yet