বাজেট উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও জনমুখী, তবে বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ সময়: ২২:৫২:৪৪
মো. আমিনুল ইসলাম
ঢাকা, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস): প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, জনমুখী এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, বাজেটটি সার্বিকভাবে জনমুখী এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তবায়ন। ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না পেলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, এটি একটি বড় ও উচ্চাভিলাষী বাজেট। নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে রয়েছে। বাজেটে বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ।
সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বাসসকে জানান, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা।
তার ভাষায়, আমাদের দেশে প্রায়ই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব দেখা যায়। অনেক উদ্যোগ সময়মতো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তাই দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বড় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এর সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরো বলেন, প্রশ্ন হলো এত বড় উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়ন কোন উৎস থেকে আসবে এবং প্রকল্পগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোতে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব কারণে সময়মতো ও গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন।
No Comment Yet