রেলওয়েকে লাভজনক করতে ও লেভেল ক্রসিংয়ে জনবল নিয়োগের নির্দেশ সংসদীয় কমিটির
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সময়: ০৯:২৮:২৬
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসান থেকে ধীরে ধীরে লাভজনক খাতে রূপান্তর এবং লেভেল ক্রসিংগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
কমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগ প্রদান এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করেছে।
বৈঠকে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কমিটির সদস্য ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
আজকের বৈঠকে প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয় এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কন্টেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকট থাকায় উক্ত মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য গৃহীত প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া ইতোপূর্বে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হলে কন্টেইনার, জ্বালানি এবং খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু, বিশ্বব্যাংকের গ্রীন রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
বর্তমানে মোংলা বন্দর হতে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ এবং জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিকট মোংলা হতে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা নেই।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ৯৫/৯৬ নম্বর ট্রেনটি মোংলা-বেনাপোল রুটে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া অতিশীঘ্রই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০ টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। ইতোমধ্যে ১৮ টি কোচ এসেছে। উক্ত ব্রডগেজ কোচ প্রাপ্তি সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, ইজারা গ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলকৃত জমি, অবৈধ দখলদারদের তালিকা এবং ভূমি সংক্রান্ত মামলা বিষয়ক প্রতিবেদন পেশ এবং রেলওয়ের ভূমি/স্থাপনায় সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অনলাইন রেল টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে সহজ ডটকমের চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভেন্ডর নিয়োগের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মর্মে মন্ত্রণালয় কমিটিকে অবহিত করে।
No Comment Yet