চুরির অভিযোগে শিশুর মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগে ১২ বছর বয়সি এক শিশুর মাথা ন্যাড়া করে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনার ২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পাঁচগাঁও বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান পাশের একটি দোকানে চা পান করতে যান। যাওয়ার সময় তিনি দোকানের ক্যাশবাক্সে সাড়ে আট হাজার টাকা রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে টাকা না পেয়ে আশপাশের ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানান।

এ সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মান্নানের অনুপস্থিতিতে ওই শিশুকে দোকানের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। পরে বাজারের লোক দুটি মোটরসাইকেলে করে শিশুটির খোঁজে বের হন। কিছুক্ষণ পর বাজারের উত্তর পাশের চৈতা এলাকায় তাকে আটক করে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিশুটি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলে একপর্যায়ে তার কোমরে লুঙ্গির ভাঁজে প্যাঁচানো অবস্থায় টাকা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এরপর শিশুটিকে বাজারে এনে শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড় করিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। পরে তাকে বাজার ঘুরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের রেইন ট্রি গাছের নিচে শহীদ মিনারের বেদীতে শিশুটিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাস শিশুটির মাথা ন্যাড়া করেন।

ভিডিওতে রতন রবিদাসকে বলতে শোনা যায়, এই ছেলে বাজারে ইতিপূর্বেও চুরি করেছে। আজ তাকে দোকানদাররা হাতেনাতে ধরেছে। তার কাছে চুরির টাকা পাওয়া গেছে। তাকে মারধর করা হচ্ছে না। এখন লজ্জাজনক শাস্তি হিসেবে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

এরপর তিনি উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, নেন এখন আপনারা এই ঘটনার ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন, যাতে আর কেউ চুরি করার সাহস না পায়।

শিশুটির এক চাচা বলেন, আমার ভাতিজার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাজারে এমন নির্যাতন করা হয়েছে। ছোট মানুষ, যদি চুরিও করে থাকে, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া যেত। আমরা গরিব মানুষ। এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাস ও ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান পাঠান বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাস অন্যায় কাজ করেছেন। এভাবে একটি শিশুকে নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক সজল সরকার বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমরা ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছি। আশা করছি, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।

0%
0%
No Comment Yet