ভেনজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা নিয়ে গুজব ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করছে
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ সময়: ১৪:৫৪:০৮
ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট শিশু জীবিত অবস্থায় আটকে আছে বলে দাবি করা হয়। বৃহস্পতিবার এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়ে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত বৃহস্পতিবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ‘তাহিতি’ নামের একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি শিশু জীবিত অবস্থায় আটকে আছে। শুক্রবার এই খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করে—একদল সম্ভাব্য জীবিত উদ্ধার অভিযানের আশায় খননকাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, অন্যদিকে অনেকে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে খননকাজ চালানোর পক্ষে অবস্থান নেন।
এক সপ্তাহেরও বেশি আগে দুই দফা ভূমিকম্পে ২,৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর নিখোঁজ হাজারো মানুষের মধ্যে এই ভবনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
বৃহস্পতিবার একাধিক উদ্ধারকারী দল তাহিতি ভবনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শুক্রবার জানায়, এখানে আর জীবিতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা এ কথা জানায়।
এক মার্কিন উদ্ধারকর্মী এএফপিকে জানান, তারা প্রশিক্ষিত কুকুর এবং উচ্চ-সংবেদনশীল যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সাড়া পাননি।
এর কয়েক ঘন্টা পর একজন ভেনেজুয়েলীয় স্বেচ্ছাসেবক দাবি করেন, ভোরের দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ শুনেছেন এবং গভীর অংশে আটকে থাকার কারণে উদ্ধারকুকুরগুলো শিশুটিকে খুঁজে পায়নি।
তবে স্বজন হারানো পরিবারগুলো গুজব ও অসমর্থিত তথ্য ছড়িয়ে তাদের কষ্ট আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
বিজ্ঞাপন
Shwapno Super Shop
ধ্বংসস্তূপে তার বাবা ও বোনের মরদেহ খুঁজতে থাকা হোসে ফ্রান্সিসকো লিয়েনদো বলেন, ‘প্রথমে বলা হলো একটি শিশু বেঁচে আছে, তারপর বলা হলো সে শ্বাস নিচ্ছে, পরে আবার বলা হলো সে সংকেত দিচ্ছে। কিন্তু তারা পুরো সত্যটা বলে না। আমাদের কষ্ট নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা আলোয়া গনজালেস বলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়ার খবর নিয়ে একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলা হলো সেখানে মানুষ আটকে আছে কিন্তু পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরে বলা হলো ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা জীবিত থাকার। যদি সত্যিই কেউ বেঁচে থাকে, আমরা সবাই তাকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৬,৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ৭২ ঘণ্টার পর জীবিত থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গণকবর ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করেছেন।
No Comment Yet