নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ সময়: ১৭:৩৬:০৬
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ (বাসস) : নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে গত এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও ১১টি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, অননুমোদিত রাসায়নিক রঙের ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়। একই সময়ে সারাদেশে ২১৪টি খাদ্য স্থাপনায় মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রাজধানী ঢাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধগুলোর মধ্যে ছিল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতা।
অন্যদিকে, ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এসব প্রতিষ্ঠানে লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি এবং নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে মোট সাড়ে ৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’তে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারাদেশে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশন ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না— তা তদারকি করা হয়। অনিয়মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
তিনি বলেন, খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
No Comment Yet