বিয়ে নিবন্ধনে কাজীর ছেলেদের সরাসরি নিয়োগের দাবি

নিকাহ নিবন্ধক বা কাজির অবসর কিংবা মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেকে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোট। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বর্তমানে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কাজিদের ছেলেদের নিয়োগের বিধান থাকলেও তাঁরা কোনো পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ চান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন ও ওলামা মাশায়েখদের মর্যাদা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের প্রধান শরিক সংগঠন বাংলাদেশ কাজী সমিতি এ সভার আয়োজন করে।

মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের মুখপাত্র কাজী ছাব্বীর বলেন, বর্তমানে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কাজিদের ছেলেদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে তাঁরা চান, সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হওয়া বা না হওয়ার শর্ত ছাড়াই কাজিদের ছেলেদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হোক।

সভায় নিকাহ নিবন্ধক সংগঠনগুলোর নেতারা আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে নিকাহ নিবন্ধকদের অধিক্ষেত্র সুরক্ষা, শূন্য পদে দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ এবং বিধি অনুযায়ী শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নিয়োগ বহাল রাখা।

বিবাহ নিবন্ধনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হলে কাজিদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনটির নেতারা।

জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ কাজী সমিতির সভাপতি কাজী ড. এ এস এম কাদের কিবরিয়া বলেন, সরকার হতদরিদ্র মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে কাজিদের আর্থিক নিরাপত্তা কীভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আলেমদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে তাঁদের সরকারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
Dutch Bangla bank Agent Banking

Dutch Bangla bank Agent Banking

আলোচনা সভায় নিকাহ নিবন্ধকেরা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে কাজিদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।

জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হোসাইন বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় সালিসি বৈঠক আয়োজন করে কাজিদের স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। পরে এসব স্বাক্ষর ব্যবহার করে কাজিরা সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সঙ্গে একমত—এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোজাম্মেল হোসাইন আরও বলেন, স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কাজিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ডিজিটাল ব্যবস্থার নামেও হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দাবি আদায়ে সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভেদ সৃষ্টি না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি উপস্থাপনের মাধ্যমে পেশাগত অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাইদ এবং বাংলাদেশ কাজী সমিতির মহাসচিব কাজী মাওলানা মো. মাসিহুর রহমানসহ সংগঠনগুলোর অন্যান্য নেতারা।

0%
0%
No Comment Yet