আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে উন্মুক্ত হচ্ছে রায়েরবাজার বধ্যভূমির নবনির্মিত স্থাপনা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সময়: ০৯:২৮:৪৩
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
আজ সোমবার রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ সময় নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। এ গৌরব ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাঁরা শায়িত আছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ যেন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ স্মরণ করে, সে লক্ষ্যেই স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানকার স্থাপনাগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতেই তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত লাইব্রেরিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকবে উল্লেখ করে আহমেদ আজম খান বলেন, আর্ট গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ ও বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।
মন্ত্রী বলেন, তারা নিজেরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব। এ গৌরব ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রেখে যেতে চান তারা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যও হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গৌরবগাথা তুলে ধরা।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে নবনির্মিত স্থাপনাগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় বধ্যভূমিতে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক ও অফিস কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারকম, স্টেজ লাইটিং, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নবনির্মিত লাইব্রেরি, অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও অফিস কক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে এসব স্থাপনার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে স্থাপনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ভবিষ্যতে এগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
No Comment Yet