ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করার লক্ষ্য বাংলাদেশের 

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জয় দিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর লক্ষ্য টাইগারদের।

বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে বাংলাদেশ। এই চক্রে এখনও বাংলাদেশের ছয়টি ম্যাচ বাকী আছে। এরমধ্যে অন্তত চারটিতে জয় ও একটিতে ড্র করতে হবে টাইগারদের। 

তবে লক্ষ্য পূরণের পথ বাংলাদেশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ফাইনালে উঠার কোন সুযোগ নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে আছে ক্যারিবীয়রা। এজন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেই সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

চলতি বছর মাত্র একটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্ট হারে টাইগাররা। 

গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট হেরে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। এরপর চলতি মাসে আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। 

জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য না পেলেও, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পয়েন্টে কোন প্রভাব পড়েনি। কারণ ঐ দুই টেস্ট সিরিজ চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামে বাংলাদেশ। লিগ পর্বে আফগান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি টাইগাররা। ফলে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স মনে করেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য অনুপ্রাণিত করবে খেলোয়াড়দের। তার মতে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে হতাশাজনক ফলাফল দলের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। 

প্রথম টেস্টের আগে সিমন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় সবাই টেস্ট ম্যাচের দিকে পুরোপুরি মনোযোগী। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। যা খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করবে। আমার বিশ্বাস সবাই দুই টেস্টের জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ১১ টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরমধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে দুই সিরিজ। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতে টাইগাররা। 

বিজ্ঞাপন
DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

DBBL Deposit Plus Scheme (DPS) ; Interest Rate 2025

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে আটটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি সিরিজ ড্র হয়।

এছাড়া ২২ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টিতে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ১৫টিতে। ২টি ম্যাচ ড্র হয়। 

সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের বিপক্ষেই নিজেদের শেষ সিরিজ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ সিরিজের দুই টেস্টে দলের পারফরমেন্সে উন্নতি দেখতে চান প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি।

চলতি বছর দু’টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে ক্যারিবীয়রা। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সম্প্রতি ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলেও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

স্যামির বিশ্বাস, সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করবে। তবে কাজটি সহজ হবে না। তার মতে, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ। 

স্যামি বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে আমাদের দু’টি টেস্ট ম্যাচ বাকী আছে। শেষ সিরিজে ভালো করার সুযোগ আছে খেলোয়াড়দের। চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্র ভালোভাবে শেষ করতে চাই আমরা।’

বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী অনিক, লিটন দাস, মোমিনুল হক, নাঈম হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, এবাদত হোসেন চৌধুরী, তাওহিদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম।

0%
0%
No Comment Yet