মজুরি বোর্ড গঠনকে স্বাগত শ্রমিক নেতাদের
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ সময়: ২২:৩১:১৭
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, ‘পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন এই বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকরা রাজপথে নেমেছেন, সরকার দাবি পূরণের পথে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মতো আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
সরকারের মজুরি বোর্ড গঠন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে চারটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসস’কে এসব কথা বলেন।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বাসস’কে বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে আন্দোলন ও নাশকতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই; বরং এগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ বলে তিনি মনে করেন।
নাজমা আক্তার বলেন, ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গাজীপুরেও বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় হামলা-ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে সরকারকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এই শ্রমিক নেতা আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন মজুরি নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এখন দ্রুত নতুন মজুরি ঘোষণা করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বাসস’কে বলেন, শ্রম আইনে পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ার বিষয়টি শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক। বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য এ পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিক-মালিক উভয়ে দুর্ভোগে পড়েন। জিনিসপত্র, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। তবে- এ দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তাসলিমা আখতার বলেন, বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের উচিত মজুরি বোর্ডে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। একই সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনা ও ধারাবাহিক বৈঠকের পর শ্রম আইনে সংশোধন এনে তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান করা হয়েছে। এটি শ্রমিকদের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবির মধ্যে সমন্বয় করে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কুতুবউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষকে নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। ভাঙচুর কখনো দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না। কারখানাগুলো দেশের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার উৎস। তাই দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও আলোচনার পথ অনুসরণ করা উচিত।
বোর্ড গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিাল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, এখন বোর্ডের কার্যক্রমের জন্য সময় দিতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবি সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অতীতের মতো দীর্ঘ সময় না নিয়ে ঘন ঘন বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করা উচিত।
সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন, হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানো হলে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হতো।
শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্ট করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন ও চুক্তিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের বিধান থাকলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক অন্য কারখানায় চাকরি পাচ্ছেন না। এ সমস্যারও সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শিল্পকারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত।
No Comment Yet