লক্ষ্মীপুরে যাত্রী ছাউনিতে দখলদারিত্বের দাপট!

লক্ষ্মীপুরে সড়কের পাশে নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো আর যাত্রীসেবার ভরসা নেই। কাগজে-কলমে যাত্রীদের জন্য গড়ে তোলা এসব অবকাঠামো বাস্তবে পরিণত হয়েছে দখলদারিত্ব ও উদাসীনতার প্রতীকে। জেলা সদরসহ রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন এলাকায় ছাউনির ভেতরে যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, ফলে সেবা কার্যত থমকে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ের প্রধান বাজার এলাকায় যাত্রী ছাউনি থাকলেও অধিকাংশ বাস সেখানে থামে না। নির্ধারিত স্টপেজ উপেক্ষা করে যাত্রীরা যত্রতত্র ওঠানামা করছেন। এতে যাত্রীরা ছাউনিতে বসে অপেক্ষা করতে পারছেন না। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। মূলত যাত্রীসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থই এখানে প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ঝুমুর এলাকা, রায়পুর, রামগঞ্জ ও চন্দ্রগঞ্জের বিভিন্ন ছাউনিতে যাত্রীর বদলে জায়গা দখল করেছে টিকিট কাউন্টার, চা-ফল ও পান দোকান। কোথাও ছাউনির ভেতরে সারি সারি চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে স্থায়ী দোকান স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের বসার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে।

জেলা জুড়ে প্রায় একশটির মতো যাত্রী ছাউনির অধিকাংশই এখন দোকানের আসবাবপত্রের দখলে। নিয়ম অনুযায়ী একটি করে দোকান থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ছাউনির দুই পাশে একাধিক দোকান বসানো হয়েছে। এমন দাপটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা দাঁড়ানোর স্থানও পাচ্ছেন না।

বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তঃজেলা বাসের নির্ধারিত দাঁড়ানোর জায়গা দখল করে রাখছে দূরপাল্লার বাসগুলো। এতে ছাউনিতে যাত্রী ওঠানামা সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দূরপাল্লার যাত্রীরাও প্রভাবশালী মহলের দোকান ও কাউন্টার থাকার কারণে ছাউনিতে বসতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

যাত্রীদের অভিযোগের পাহাড় জমলেও দেখার কেউ নেই। বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। সংস্কারের অভাবেও অনেক ছাউনির অবস্থা করুণ।

দখলদার ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তারা যাত্রী এলে বসার ব্যবস্থা করে দেন। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন; অধিকাংশ সময় ছাউনির ভেতর আসবাবপত্রে ঠাসা থাকে। জনসেবার সাইনবোর্ড কেবল আইনি বাধা এড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার জানিয়েছেন, দ্রুত এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া দখলদারিত্ব থামানো সম্ভব নয়। না হলে সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে না এবং যাত্রী ছাউনিগুলো পুরোপুরি বাণিজ্যিক আস্তানায় পরিণত হবে।

0%
0%
No Comment Yet