পিতা ও মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে কঠোর আইন রয়েছে দেশে
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ সময়: ১৪:০৮:০৩
\ এস এম আশিকুজ্জামান \
ঢাকা, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : যে পিতা-মাতা সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সেই পিতা-মাতার অনেকেই অনেক সময় সন্তানের কাছ থেকে প্রাপ্য ভরণ-পোষণ থেকে বঞ্চিত হন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সামাজিক বাস্তবতায় পিতা-মাতার অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশে রয়েছে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩’।
এই আইনে ‘ভরণ-পোষণ’ বলতে পিতা-মাতার খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং তাদের সময় বা সঙ্গ দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেরা আলোচনা করে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন। এই ধারার অধীনে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো সন্তানই তার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না।
এছাড়া সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা বা উভয়ই সন্তানদের থেকে আলাদাভাবে বসবাস করলে, প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিত তাদের সাথে দেখা করতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক সন্তান তার দৈনিক, মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত পিতা-মাতাকে প্রদান করবে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
আইনের ৪ ধারায় দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের বিষয়ে বলা হয়েছে, পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ-পোষণ দিতে সন্তান বাধ্য থাকবে। এটি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসেবেই গণ্য হবে।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার শাস্তি সম্পর্কে ৫ ধারায় বলা হয়, কোনো সন্তান এই আইনের ৩ ও ৪ নং বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করেন, তবে তিনিও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য হবেন। এই অপরাধের জন্যও সমপরিমাণ অর্থাৎ অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ আমলে নেবে না।
No Comment Yet