গ্যাসে রান্না করা হাপানির রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, বিকল্প হতে পারে ইলেকট্রিক স্টোভ: গবেষণা

প্রাকৃতিক গ্যাসের চুলা পরিবর্তন করে ইলেকট্রিক ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করলে হাপানি বা অ্যাজমা রোগীদের লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাস স্টোভের জায়গায় ইলেকট্রিক স্টোভ বসানোর ফলে রোগীদের জরুরি বিভাগে ভর্তি ও হাসপাতালে যাওয়ার হার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। 

দেশটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি পরিবারে রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস দহনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পাশাপাশি নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য যৌগ তৈরি হয়, যা ফুসফুসে তীব্র জ্বালাপোড়া ও সমস্যা সৃষ্টি করে। 

আমেরিকায় প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ অ্যাজমা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, যারা এ ধরনের গৃহস্থালি বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

যেভাবে পরিচালিত হয় গবেষণাটি 

গবেষক দলটির মাধ্যমে পরিচালিত এই গবেষণায় ৮৫ জন পূর্ণবয়স্ক ও শিশু অ্যাজমা রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা অনিয়ন্ত্রিত হাপানির সমস্যায় ভুগছিলেন এবং গ্যাসে রান্না করা বাড়িতে বসবাস করতেন। 

গবেষণার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে গ্যাস লাইন বন্ধ করে রোগীদের বাড়িতে ‘ইলেকট্রিক ইনডাকশন স্টোভ’ বসিয়ে দেওয়া হয়। 

ইনডাকশন স্টোভ দ্রুত উত্তপ্ত ও ঠান্ডা হওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ইলেকট্রিক কয়েল স্টোভের চেয়ে বেশি নিরাপদ এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়। চুলা পরিবর্তনের আগে এবং পরিবর্তনের দুই থেকে তিন মাস পর বায়ুর গুণমান ও রোগীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। 

গবেষণার ফলাফল 

চুলা পরিবর্তনের ফলে অ্যাজমার লক্ষণে যে উন্নতি দেখা গেছে, তা প্রচলিত ওষুধ ব্যবহারের ফলাফলের সমকক্ষ বা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি কার্যকর ছিল:

লক্ষণের তীব্রতা হ্রাস: গড়ে রোগীদের মাঝারি মাত্রার অ্যাজমার লক্ষণগুলো কমে মৃদু মাত্রায় নেমে এসেছে। 

বিজ্ঞাপন

Anjara World Shop

হাসপাতালে ভর্তির হার হ্রাস: জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তির হার কমেছে ৭০ শতাংশ। 

অনুপস্থিতি হ্রাস: হাপানির কারণে স্কুল বা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার কমেছে ৮০ শতাংশ।

ঘরের বায়ু সুরক্ষা: ঘরের ভেতরের নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

গ্যাস শিল্প সংস্থাগুলো গ্যাসের চুলাকে রান্নার জন্য সেরা দাবি করলেও, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৯৮ শতাংশ মানুষ ইলেকট্রিক ইনডাকশন স্টোভ ব্যবহারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে, গ্যাস স্টোভে সন্তুষ্ট ছিলেন মাত্র ৪১ শতাংশ।

তবে পুরোনো বাড়িগুলোতে ইলেকট্রিক স্টোভ বসানোর আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ উন্নত করার খরচ একটি বড় বাধা হতে পারে। সাধারণ নতুন বাড়িতে এই খরচ প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার হলেও, পুরোনো বাড়িগুলোতে এই খরচ ৭,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। 

তবে গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির খরচ বাঁচার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার বা স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা রোগীদের জন্য এই রূপান্তরে ভর্তুকি দিতে পারে। 

উদাহরণস্বরূপ, ইকুয়েডরে ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সরকার ৭ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে ইনডাকশন স্টোভ ব্যবহারে ভর্তুকি দেয়, যার ফলে দেশটিতে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। 

বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ 

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, চুলা পরিবর্তন করা অ্যাজমার সম্পূর্ণ নিরাময় নয়। রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং ধূমপান, ধুলাবালি বা পরাগরেণুর মতো অন্যান্য অ্যালার্জেন থেকে দূরে থাকতে হবে। 

সূত্র: জাপান টুডে 

0%
0%
No Comment Yet