ফুলবাড়িয়া–ময়মনসিংহ সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে, ২১ কিলোমিটার ‘মরণফাঁদ’
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ সময়: ২৩:৪৮:৫২
ময়মনসিংহ-ফুলবাড়িয়া ২১ কিলোমিটার সড়কটি যেন এখন স্থানীয়দের জন্য এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন সহস্রাধিক গাড়ির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরু এই সড়কটি। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় যানজট লেগেই থাকছে, আর প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই সড়কটি এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের লাইফলাইন। অথচ সড়কটির বেহাল দশা ও অবহেলায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বড় একটা অংশ জুড়ে পিচ-খোয়া উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে কাদা-পানি জমে একাকার হয়ে যায়। এছাড়া সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বড় যানবাহন একে অপরকে পাশ কাটাতে গেলেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
ফুলবাড়িয়া রুটের নিয়মিত যাত্রীএডভোকেট হুমায়ূন কবীর বলেন, “২১ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে এখন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা কি এভাবেই বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাব?”
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
পরিবহন চালকরা জানান, সড়কের ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে গাড়ির সাসপেনশনসহ নানা যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে মেরামত খরচ বাড়ছে, অথচ যাত্রীসেবার মান ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যানজট নিরসনে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, কেবল আশ্বাসের বাণী নয়, এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
No Comment Yet