তিস্তার ভাঙনরোধে কাজ শুরু করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ সময়: ০৮:৫১:৪৬
নীলফামারী, ২৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ডিমলা উপজেলায় ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনরোধে কাজ শুরু করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ভাঙনকবলিত এলাকায় ফেলানো হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ও ৮০০ মিটার জিও টিউব। আজ রোববারের বিকেলে এসব তথ্য জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র।
উজানের ঢলে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চার গ্রাম। গত পাঁচদিনের অব্যাহত ভাঙনে এসব গ্রামের শতাধিক পরিবার হারিয়েছে ঘর-বাড়ি। অসহায় পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে তিস্তার বাধসহ বিভিন্নস্থানে।
আজ রোববার দুপুরে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়াডের সদস্য (মেম্বার) নুর হোসেন জানান, গত পাঁচদিন ধরে ইউনিয়নের ভেণ্ডাবাড়ি, পূর্ব ছাতুনামা, পশ্চিম ছাতুনামা ও কেল্লাপাড়া গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন চলছে।
অব্যাহত ভাঙনে গত বুধবার ২২টি, বৃহস্পতিবার ৬০টি ও শুক্রবার ১৫ পরিবারের বসতভিটা হারানোর তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ও আজ রোববারও ভেঙেছে।
এতে করে গত পাঁচদিনে বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা ১০০ পার হবে। ভাঙন ও জলমগ্নতায় এসব গ্রামের ৫০০ একর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বাধসহ পাশ্ববর্তী এলাকার বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ভাঙনরোধে গতকাল শনিবার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আজ রোববার কাজ অব্যাহত থাকায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকার মানুষের মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এলাকাবাসী জানায়, উজানের ঢলে গত বুধবার থেকে ওই চার গ্রামে প্রবল ভাঙন শুরু হয়। নদীর পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত আছে। পাঁচদিনে অব্যাহত ভাঙনে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের দাবি নদীর গতিপথ ডানতীরে সরে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙনের শিকার হয়ে তিস্তার বাধে আশ্রিত ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের পূর্ব ছাতুনামা গ্রামের গৃহিনী আনোয়ারা বেগম (২৭ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে খেয়ে ফেলেছে আমাদের ভিটেমাটি। কোনোভাবে ঘরের চাল খুলে এনে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। চুলা জ্বালাতে পারছি না, বাচ্চাদের মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট খাওয়াচ্ছি।
ভেণ্ডাবাড়ি গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম (৫৬) বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে ভিটেমাটিসহ কৃষিজমি নদীতে হারাচ্ছি আমরা। তবে এবারের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদী ভাঙনে ১২ বিঘা কৃষি জমি হারিয়ে এখন আমি পথে বসেছি।
কেল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক মমিনুর রহমান (৬৫) বলেন, নদীতে বন্যা আসলেই ঘর-বাড়ি, জমিজমা নদীতে চলে যাচ্ছে, এবারও তাই হয়েছে। কতবার নতুন করে ঘর করেছি, তার হিসাব নেই।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বাসসকে জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ১৩ মেট্রিকটন চাল শুকনো পাওয়া গেছে। যা বন্যা কবলিত মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বাসসকে বলেন, তিস্তার যে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেটি নদীর চর গ্রামে। সময়ে সময়ে নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়। এর আগে উজানে বাইশপুকুর এলাকায় ভাঙনরোধে কিছু কাজ করায় এবার পানির গতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ভাটিতে জেগেউঠা চরে পানি আঘাত করেছে। সেটি রক্ষায় ২৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ৮০০ মিটার জিও টিউব ফেলানো হচ্ছে।
No Comment Yet