এ দেশের জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে: এম আবদুল্লাহ
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সময়: ০৩:০৯:০৯
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ বলেছেন, “এ দেশের জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। এই ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় গুজব, মিস ইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন ছড়িয়ে যেন নির্বাচন ভন্ডুল না হয়, পরিবেশ ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জেলায় কর্মরত ১৬ জন সাংবাদিকের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
এম আবদুল্লাহ আরও বলেন, সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সাংবাদিকদের জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব, আবার অসতর্কতা ও অপতথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে নির্বাচনকে ভন্ডুল বা বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যম প্রভাব ফেলতে পারে।
“আমরা এখন একটি মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশে কাজ করছি। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছর ফ্যাসিস্ট রেজিমে সাংবাদিকতাকে দলিত ও ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল। দেশাত্মবোধ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে যারা কাজ করেছে, তাদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, সম্পাদকদের জেলে পাঠানো হয়েছিল, অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।”
তিনি বলেন, প্রায় ১৪ শত মানুষের জীবন ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অঙ্গহানির বিনিময়ে যে মুক্ত পরিবেশ অর্জিত হয়েছে, সেখানে দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা যেন আবার জন্ম না নেয়, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একজন বিবেকবান মানুষ, গণতন্ত্রমনা নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমরা এর নিন্দা জানাই। তবে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় যেন বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৫৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, প্রতি মাসে অসংখ্য সাংবাদিক পঙ্গু হয়েছেন, মামলায় জড়িয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। “এই ইতিহাস চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
এম আবদুল্লাহ বলেন, “যখন সম্মানিত ব্যক্তিরাও অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমান ঘটনাকে একমাত্র উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন আমাদের কষ্ট আরও গভীর হয়। মাহমুদুর রহমানের মতো সম্পাদককে চ্যাংদোলা করে গ্রেপ্তার, দীর্ঘ কারাবাস ও নির্বাসিত জীবন, এসব ইতিহাস গণমাধ্যমের স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সত্যকে বিকৃত বা উপেক্ষা করে নয়, বরং সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। “কোনো আমলেই আমরা সংবাদমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন চাই না,” যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এবং লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসাইন আহমদ হেলাল।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আ.হ.ম মোশতাকুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক গাজী গিয়াস উদ্দিন, এম তৌহিদুর রহমান রেজা, দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম স্বপনসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
No Comment Yet