দা-বঁটি, ছুরি-চাপাতির টুংটাং শব্দে মুখর খুলনার কামারশালা
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ সময়: ১৫:৩৩:৪২
\ মুহাম্মদ নূরুজ্জামান \
খুলনা, ২৬ মে ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে খুলনার কামারশালায় চলছে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত দা, বঁটি, ছুরি, চাকু, হাসুয়া ও চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো সরঞ্জাম তৈরি ও শান দেওয়ার কাজ। কামারদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।
নগরীর বড়বাজার, নিউমার্কেট, গল্লামারি ও টুটপাড়া জোড়াকল বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের কামারশালাগুলোতে এখন চলছে পুরোদমে উৎপাদন ও শান দেওয়ার কাজ। কামারশালা এখন টুংটাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে। কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কাটাকাটির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় কামাররা। পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি এবং পুরোনো সরঞ্জাম শান দিতে কামারদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়লার দগদগে আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির পিটুনিতে দা, বঁটি, ছুরি, ও চাপাতি তৈরি ও মেরামতের কাজ চলছে। ক্রেতারা নতুন ধারালো অস্ত্র কেনার পাশাপাশি পুরোনো মরিচা ধরা সরঞ্জামগুলোও চকচকে ও ধারালো করে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জ্বলন্ত কয়লার আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহাকে হাতুড়ির আঘাতে আকার দিচ্ছেন কারিগররা, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে লোহার টুংটাং শব্দ। এ যেন ঈদের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
বটিয়াঘাটা বাজারের কর্মকার কালিপদ বাসসকে বলেন, আমরা স্প্রিং ও লোহা ব্যবহার করে দা, বঁটি ও ছুরি তৈরি করছি। তবে স্প্রিং-লোহা দিয়ে তৈরি জিনিসের দাম বেশি। দা এর দাম কেজি হিসেবে ১১০ টাকা, দরে ৭৫০ টাকা, ছুরির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বঁটি ৩৫০ টাকা। প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিন বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের মানুষ এসে এসব তৈরি করিয়ে নিয়ে থাকেন। এখন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাজ অনেকটা বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
উপজেলার খুটিরহাটে কামার ঘরে ধারালো ছুরি তৈরি করাতে আসা সাবেক ইউপি সদস্য আলঙ্গীর হালদার জানান, গরু কোরবানি দিতে এবং মাংস প্রস্তুত করতে ধারালো বঁটি, ছুরি, কুড়াল ও চাপাতির প্রয়োজন হয়। তাই সেগুলো তৈরি করতে এসেছি। তবে সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তারপরেও প্রয়োজন, তাই বানিয়ে নিচ্ছি।
তবে কামারদের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এ বছর লোহা ও কয়লার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ কারণে লাভ কম হচ্ছে। আবার পর্যাপ্ত কাজের চাপ থাকলেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছে না।
No Comment Yet