শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
সময়: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ সময়: ১৬:১২:৫৬
নারায়ণগঞ্জ, ১৭ জুলাই, ২০২৬, (বাসস): পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল ৩৫ বছর বয়সী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিকের কাজ। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে গত বছর তিনি ফায়ার সার্ভিসের সেরা ডুবুরি হিসেবে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় পদক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই প্রশিক্ষিত ডুবুরির প্রাণ গেল শীতলক্ষ্যা নদীর বুকে।
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের ফায়ার ঘাট এলাকায় নিজেদের পন্টুনের সামনে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারের কুমরাকান্দি গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্য ডুবুরি ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে প্রচুর কচুরিপানা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে স্পিডবোটে করে সাদিকসহ তিন কর্মী তা পরিষ্কার করতে নামেন। এ সময় স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
বিজ্ঞাপন
Anjara World Shop
সহকর্মীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দীর্ঘ আট ঘণ্টার অভিযান শেষে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সাদিকের সহকর্মীরা জানান, অত্যন্ত দক্ষ ও সাহসী ডুবুরি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে বেশ সুনাম ছিল তার। পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া অসংখ্য মানুষকে উদ্ধারে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। কাজে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর তিনি ফায়ার সার্ভিসের ‘সেরা ডুবুরি’ পদকও লাভ করেন।
এদিকে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত সাদিকের পরিবারকে সান্ত¡না দেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বাসসকে বলেন, স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় মাথায় বা শরীরের অন্য কোথাও আঘাত পেয়েছিলেন বলে আমরা ধারণা করছি। কারণ, তিনি অত্যন্ত প্রশিক্ষিত একজন ডুবুরি ছিলেন। আঘাত না পেলে তার এভাবে নিখোঁজ হওয়ার কথা নয়। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
No Comment Yet